টুকটুকির মা লিরিক্স | tuktuir ma lyrics : ভবা পাগলা (১৮৯৭-১৯৮৪) আসল নাম ‘ভবেন্দ্র মোহন সাহা’। তার জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে। তার পিতার নাম ‘গজেন্দ্র কুমার সাহা’। ভবা পাগলারা ছিলেন তিন ভাই এক বোন। তিনি দেখতে ছিলেন একরকম হালকা পাতলা গড়ন, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, মাথায় ঝাঁকড়া চুল, চিবুকে এক গোছা দাঁড়ী।
টুকটুকির মা লিরিক্স | Tuktuir ma lyrics | Gurupada Gupta | Voba Pagla
Lyrics : Voba Pagla
Singer : Gurupada Gupta

টুকটুকির মা লিরিক্স :
বয়স আমার বেশি না,
ওরে টুকটুকির মা,
খালি চুল কয়ডা পাইহে গেছে বাতাসে।
তোমার মাইয়েডা আমারে দেবানা,
কবছো- ও কতা মোটে কবানা!
তাইলি কিন্তু মইরে যাবানি হুতোশে।
বয়স আমার…………বাতাসে।
কাটতাম তাল খাজুর গাছ
টুকটুকিডা বেড়াতো পাছপাছ,
প্রেত্তেকদিন খাতো রস তিন বেলা।।
অয় আমারে জামোই বানাও
আরনয় তো সেই রসের দাম দেও।
অয় আমারে জামোই বানাও
আরনয় তো সেই রসের দাম দেও,
মেলা দিন ধইরে কিন্তু জ্বালাইছে সে।
বয়স আমার…………বাতাসে।
ধরি তোমার দুইহান পাও,
কথাডা কি শুনে নেও,
কত স্বপ্বন দেহি ওরে লইয়ে।।
টুকটুকিডা বউ অলি,
কি যে কায়দাডা অত তালি।
টুকটুকিডা আমার বউ অলি,
কি যে কায়দা অত তালি।
আমার মত জামোই তোমরা
পাবা কোন দ্যাশে।
বয়স আমার……….বাতাসে।
আমি কি ছোয়াল খারাপ নেহি
দোষ এট্টু কানে আর চৌহি
দাঁত পোহে খাইছে তাতে
হইছে-ডা কি? ।।
তাই বলে আমি কি
এ্যার পঁইচে গেছি নেকি?
তাই বলে আমি কি
এ্যার পঁইচে গেছি নেকি?
আমি কেমন শুনে দেইখো
গুরুপদর কাছে।
বয়স আমার…………..হুতোশে।
বয়স আমার বেশি না,
ওরে টুকটুকির মা,
চুল কয়ডা পাইহে গেছে বাতাসে।

Tuktuir ma lyrics in english :
Boyos Amar Beshi Na
Ore Tuktukir Maa
Khali Chul Koyda Paihe Gechhe Batase.
Tomar Maiyeda Amare Debana
Bocho- O Kota Mote Kobana
Taile Kintu Moire Jabani Hutose
Kattam Tal Khajur Gach
Tuktukida Berato Pach Pach
Prektek Din Khato Ros Tinbela.
Oy Amare Jamoi Banao
Arnoy To Sei Roser Dam Deo.
Meladin Dhoire Kintu Jwalaiche Se.
Dhori Tomar Duihan Pao
Kotada Ki Shune Nao
Koto Swapwon Dehi Ore Loiye.
Tuktukida Bou Oli
Kije KaydaDa Oto Tali.
Amar Moto Jamoi Tomra
Paba Kon Dyashe?
Ami Ki Choyal Kharap Nehi
Dosh Ettu Kane Ar Chohi
Dant Pohe Khaiche Tate
Hoise Da Ki?
Tai Bole Ami Ki
Ayar Poiche Gechi Neki?
Ami Kemon Jamoi Shuine Deikho
Gurupador Kache.
Boyos Amar Beshi Na
Ore Tuktukir Maa
Chul Koyda Paihe Gechhe Batase.

গিতিকার এর প্রচিত :
গানের ভণিতায় তিনি নিজেকে ভবা বা ভবেণ বলে উল্লেখ করেছেন। মানিকগঞ্জ অঞ্চলে তিনি ভবা পাগলা নামে খ্যাত। তাঁর গান মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছিল অনেক আগেই। অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ‘বাংলার বাউল ও বাউল গানে’ তাঁর দুটি গান ছেপেছিলেন। মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ‘হারামণির সপ্তম খণ্ডে’ ভবা পাগলা সম্পর্কে লিখেছেন, ভবা পাগলা এক জন নামকরা বাউল গান রচয়িতা।
তিনি সাটুরিয়া থানার (বর্তমানে উপজেলা) অন্তর্গত আমতা গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পর (অর্থাৎ ১৯৪৭ এর পর ১৯৭১) তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। তাঁর গান মানিকগঞ্জ জেলা সহ বাংলাদেশ ও ভারতে বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি লাভ করে ও গীত হয়ে আসছে। তিনি মূলত শ্যামা সঙ্গীত, ভাব গান, গুরুতত্ত্বের গান, দেহতত্ত্বের গান, ও সৃষ্টিতত্ত্বের গান রচনা এবং সুর নিজেই করেছেন।
তিনি ১৯৪৭-এ ভারতে চলে যান এবং বর্ধমানে কালনাতে অবস্থান করতেন। ভবা পাগলা ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে দেহ ত্যাগ করেন।

ভবার পুঁথিগত শিক্ষা অষ্টম শ্রেণীর চৌকাঠ পেরোয়নি। তবে জীবন বোধে যে অমরত্ব লাভ করেছে, তার পুঁথিগত শিক্ষায় জ্ঞান লাভের প্রয়োজনও বিশেষ ছিলনা। ছেলেবেলা থেকেই পরিবারের সহবতে, ভক্তিভাব ছিল ভবার সঙ্গী। গ্রাম্য ভাষায় মুখে মুখে গান বাধা স্বভাব ছিল ভবার। গানের কথার সাথে সুর মিলতো দুই প্রিয় সহচরীর মতো। গানের স্রোতে তারা খেলে বেড়াতো স্বকীয়তায়। অন্তরের সবচেয়ে গভীর জমিতে গড়ে তুলতো অন্তর্যামীর আশ্রয়। বাংলার সংগীত জগতে তো বটেই, বিশ্বের নিরিখেও ভবা পাগলা এক অনন্য নজির।
তথ্য বলছে ভবা পাগলার গানের সংখ্যা ছিয়াশি হাজার। ছিয়াশি হাজার সংখ্যাটা হয়তো অতিরঞ্জিত। গবেষণা বলে, ভবার গানের সংখ্যাটা আসলে দশহাজার। এই সংখ্যাটাও বিপুল। এতো বিপুল সংখ্যক লোকগানের জনক কেন বিস্মৃতপ্রায়? সহজ উত্তর হলো ভবার প্রচারবিমুখতা। তার এই প্রচারবিমুখতার জন্যে, তার জীবনের অনেক ঘটনাই বিতর্কের বেড়াজালে আটকে পড়েছে।
বাউলদের এক অংশ তাকে নিজেদের বলে দাবি করেন। যদিও অধিকাংশের মতে ভক্তিরস থাকলেও ভবা পাগলা তার গানে বাউল ধর্মের প্রভাবকে প্রকট হতে দেননি। জাত-পাতে অবিশ্বাসী ভবার কাছে অন্তরের শুচিতাই ছিল গানের মূল আলেখ্য। তাইতো অক্লেশে তিনি লিখতে পেরেছেন “দূর করে দে মনের ময়লা”। কোথাও গিয়ে এই গানের আবেদনে রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পরে। মনে পরে কবিগুরু কেমন একই ভাবে বলেছেন “সংসার যবে মন কেড়ে লয়… জাগেনা যখন প্রাণ”।
গঙ্গার এপার আর পদ্মার ওপারের গান, দুই বাংলার চেতনাকে, একই মালায় বেঁধে রেখেছে। একজন গায় লালন আর একজন শীতল হয় রবীন্দ্রনাথে। ভবার গানেও মিশে যায় বিষাদ-অভিমান। পরিচয় ঘটে নিজের আত্মার সাথে।
ঘটনাচক্রে ভবা পাগলা একবার নন্দলাল দাস নামের এক দূরারোগ্য রুগীকে ঠিক করে দেন। এই ঘটনার পরবর্তী সময়ে অনেকেই ভবাকে ঈশ্বররূপে পূজা করতে থাকেন। প্রতিষ্ঠা পায় ভবার হরবোলা মন্দির। ১৯৮৪ তে ভবা পাগলা শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। তবে বাংলা লোকসংগীত যতদিন থাকবে ততদিন বারে বারে বলতে হবে- “বারে বারে আর আশা হবে না”
আরও দেখুনঃ
- স্বার্থ ছাড়া বন্ধুবান্ধব কাছে আসে না লিরিক্স | sartho sara bondhu bandhob kase ase na lyrics | নকুল কুমার বিশ্বাস
- প্রেমের কাহিনী গান লিরিক্স | premer kahini gaan lyrics | প্রেমের কাহিনী | Jeet Gannguli
- তুমি কি কেবলই ছবি লিরিক্স | tumi ki kebali chhobi lyrics | হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
- লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ লিরিক্স | Labonne purno pran lyrics | Lopamudra Mitra | লোপামুদ্রা মিত্র
- বলি লিরিক্স | Boli lyrics | Tanzir Tuhin | তানজির তুহিন | 2021