‘তোমায় আমি পেতে পারি বাজি’—ভাইরাল এই গানটির গীতিকার ও সুরকার হাশিম মাহমুদ। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের সংসারে বড় হয়ে ওঠা হাশিম ছোটবেলা থেকেই সংগীত–পরিবেশে বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা গান করতেন, আর সেই প্রভাবেই হাশিমও শৈশব থেকেই সংগীতকে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেন।
১৯৯৪ সালে ডিগ্রি পাস করার পর তিনি আর কোনো পেশাকে মনেই স্থান দেননি। গানই ছিল তাঁর ধ্যান–জ্ঞান। আড্ডাপ্রিয় এবং প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে ছোট-বড় সবার কাছে ছিলেন প্রিয়। নিজের লেখা ছড়া ও গান নিয়ে তিনি অনুজ–অগ্রজদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন, শোনাতেন তাঁর সৃজনশীলতার গল্প।
আজ হাশিম মাহমুদের ভক্তরা যেমন তাঁর গান ভালোবাসেন, তেমনি তাঁর পরিবারও চায়—তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। সবাই আবার দেখতে চান সেই মনভোলা, সৃজনশীল হাশিমকে, যিনি গান ও ছন্দে হারিয়ে যেতেন নিজের মতো করে।
তোমায় আমি পেতে পারি বাজি লিরিক্স | হাশিম মাহমুদ
Tomay Ami Paite Pari Bazi Lyrics | hasim mahabub
তোমায় আমি পেতে পারি বাজি লিরিক্স :
গঙ্গা যদি যাইতে পারি
তোমায় আমি পাইতে পারি
ভ্রমর কালো নদী
নদী যদি বাইতে পারি
সাদা পাল উড়াইতে পারি
ভ্রমর কালো নদী
নদীতে তুফান উঠিলে
তরী যদি না সেচিলে
অঘটনেও রাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি
একবার আমি গিয়ে ছিলাম পাহাড়ি অঞ্চল
পাহাড়ি কন্যারে তোর দুটো ছল ছল
একবার আমি গিয়ে ছিলাম পাহাড়ি অঞ্চল
পাহাড়ি কন্যারে তোর দুটো ছল ছল
জল কেন চোখে জল
বল মেয়ে তুই বল
জল কেন চোখে জল
চঞ্চল মেয়ে তুই বল
ওহও তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
ওহও তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
আবার আমি গিয়ে ছিলাম নীল সাগরের জল
সাগরের কন্যারই মন পায়নি সে অতল
আবার আমি গিয়ে ছিলাম নীল সাগরের জল
সাগরের কন্যারই মন পায়নি সে অতল
জল কেন চোখে জল
বল মেয়ে তুই বল
জল কেন চোখে জল
বল মেয়ে তুই বল
ওহও তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
ওহও তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
গঙ্গা যদি যাইতে পারি
তোমায় আমি পাইতে পারি
ভ্রমর কালো নদী
নদী যদি বাইতে পারি
সাদা পাল উড়াইতে পারি
ভ্রমর কালো নদী
নদীতে তুফান উঠিলে
তরী যদি না সেচিলে
অঘটনেও রাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
হে তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি
বাজি বাজি বাজি
একজন হাশিম মাহমুদ:
কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’ গানটির একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়—উশকোখুশকো চুল, এলোমেলো দাড়ি, পরনে সাদামাটা পোশাক—এমন এক মধ্যবয়স্ক মানুষ খালি গলায় মনখুলে গাইছেন গানটি। কোন বাদ্যযন্ত্র নেই, কোন কারুকাজ নেই—শুধুই এক অনন্য অনুভূতির কণ্ঠ। তখন কেউ জানতেন না তাঁর পরিচয়। পরে জানা যায়, বোহেমিয়ান জীবনযাপনে অভ্যস্ত সেই গায়ক-গীতিকারের নাম হাশিম মাহমুদ। এই গানটির গীতিকার ও সুরকারও তিনিই।
‘সাদা সাদা কালা কালা’ দিয়ে আবারো আলোচনায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরও খুব বেশি আলোচনায় আসেননি হাশিম। কিন্তু সময় বদলেছে অন্যভাবে। তাঁর লেখা ও সুর করা ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘হাওয়া’-তে। গানটি মুক্তির পরপরই নতুন করে হইচই পড়ে যায় নেটিজেনদের মধ্যে। নানা প্ল্যাটফর্মে শেয়ার, রিমেক, কাভারে ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
গানটি যত ছড়িয়েছে, ততই বাড়তে থাকে এই নিভৃতচারী শিল্পীর প্রতি মানুষের কৌতূহল। এতদিন নিজের কণ্ঠেই গানটি গাইতেন তিনি। কিন্তু সিনেমায় গানটি গেয়েছেন এরফান মৃধা শিবলু। কারণ—হাশিম মাহমুদ বর্তমানে অসুস্থ। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিজে গাইতে পারেননি।
‘হাওয়া’ সিনেমায় গানটির সংগীতায়োজনে কোনো প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। নৌকার কাঠ, বাঁশ, হাঁড়ি-পাতিল—এসব দিয়েই দীর্ঘদিনে গানটির কম্পোজিশন তৈরি করেছেন ইমন চৌধুরী। যন্ত্রগুলো বাজিয়েছেন মিঠুন চাকরা।
হাশিমকে খুঁজে পাওয়ার গল্প
গানটির গীতিকারের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ‘হাওয়া’র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন জানান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিতই ছিলেন হাশিম। সুমনের সঙ্গেও ছিল তাঁর আড্ডার সম্পর্ক, ছিল অনেক স্মৃতি। নানা ব্যস্ততায় দূরত্ব তৈরি হলেও ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের জন্য হাশিমের গান প্রয়োজন ছিল। তাই টানা চার মাস খুঁজে অবশেষে পাওয়া যায় হাশিম মাহমুদকে। এরপরই নেওয়া হয় গানটির ব্যবহার অনুমতি।
অসুস্থতা আর নিভৃত জীবন
নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা হাশিম মাহমুদ বর্তমানে এক কঠিন মানসিক রোগ—সিজোফ্রেনিয়া—তে ভুগছেন। আগের মতো চঞ্চল, প্রাণবন্ত, আড্ডাবাজ হাশিম আর নেই। আচরণে এসেছে পরিবর্তন, চিন্তায় অসংগতি। নিজের লেখা গান নিয়ে চারদিকে এত উন্মাদনা—এ সবকিছু তিনি এখন কতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার পৈতৃক বাড়ির এক কোণে তাঁর বসবাস। মায়ের সঙ্গে থাকেন। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর মা জমিলা আক্তার শেফালি বলেন—
“সে সারাদিন ঘরেই থাকে। আপনমনে গান গায়, খাতায় লেখে। কলম-খাতা ফুরিয়ে গেলে কিনে দিতে বলে। গান ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই আসে, ছবি তোলে। কিন্তু সে কিছুই ঠিকমতো বুঝতে পারে না। আজ আমার ছেলেকে সবাই চিনছে—এইটাই আমার শান্তি।”
হাশিম মাহমুদের শৈশব–যৌবন
পাঁচ ভাই ও দুই বোনের সংসারে বড় সন্তান হাশিম। বাবা গান করতেন, আর সেই সূত্রে শৈশব থেকেই গানের প্রতি তাঁর প্রেম। ১৯৯৪ সালে ডিগ্রি পাসের পর তিনি ঠিক করেন—জীবনে গানই হবে তাঁর পথচলা। চাকরি বা ব্যবসা তাঁকে আকর্ষণ করেনি কখনো। আড্ডাপ্রিয়, হাসিখুশি, ছড়া ও গান লিখতে ভালোবাসা—এভাবেই কাটত তাঁর দিনগুলো।
তিনি ছোট-বড় সবার প্রিয় ছিলেন। ছড়ার আড্ডায় অনুজ–অগ্রজ সবাইকে যুক্ত করতেন। তাঁর সৃজনশীল জীবনে অনেক গান ও কবিতার জন্ম হয়েছে।
আশার কথা
এখন তাঁর পরিবার ও ভক্তদের একটাই আশা—হাশিম মাহমুদ আবার সুস্থ হয়ে উঠুন, আবার ফিরে আসুন গানের সেই প্রিয় জগতে। তাঁর সৃষ্ট গানগুলো যেমন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি মানুষও তাঁকে ফিরে পেতে চায় আরও প্রাণবন্তভাবে।