কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স | Kolijate dag legeche lyrics | Jibon Dewan

কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স | বাউল শিল্পী বা বাউল সাধক বা বাউল একটি বিশেষ ধরণের গোষ্ঠী ও লোকাচার সঙ্গীত পরিবেশক, যারা গানের সাথে সাথে সুফিবাদ, দেহতত্ত্ব প্রভৃতি মতাদর্শ প্রচার করে থাকে। বাউল সাধক বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকে। বাউল গান পঞ্চবিংশ শতাব্দীতে লক্ষ্য করা গেলেও মূলত কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের গানের মধ্য দিয়ে বাউল মত পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নিকট।

বাউলদের সাদামাটা জীবন ধারণ ও একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্বের মৌখিক এবং দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে বাউলদের বাউল গানকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।

কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স | Kolijate dag legeche lyrics | Jibon Dewan
বাউল শিল্পী

 

কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স | Kolijate dag legeche lyrics | Jibon Dewan

Singer : Jibon Dewan
Lyric : Jibon Dewan
Tune : Jibon Dewan
Music : Zahid Bashar Pankaj
Label : Suranjoli

কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স :

যার জন্যে ঘর বানাইলাম সে রইলো না ঘরে
সেই ঘর উড়াইয়া নিলো কালবৈশাখী ঝড়ে
প্রাণটা আমার ছটফট করে বুকে হাহাকার
আমার ভালোবাসার ময়না পাখি এখন জানি কার
ভালোবাসার ময়না পাখি এখন জানি কার

 

কলিজাতে দাগ লেগেছে কলিজাতে গো
কলিজাতে দাগ লেগেছে হাজারে হাজার
আমার ভালবাসার ময়না পাখি এখন জানি কার
ভালবাসার ময়না পাখি এখন জানি কার

শিকল কাটা পাখির মত উড়িয়া সে গেল
সেদিন হতে আমার জীবণ শুধুই এলোমেলো।
শিকল কাটা পাখির মত উড়িয়া সে গেল
সেদিন হতে আমার জীবন শুধুই এলোমেলো।

জাতের কুলে কালি দিলো
জাতের কুলে কালি দিল কান্না হইল সার।
ভালবাসার ময়না পাখি এখন জানি কার।

যার জন্য সব হারাইলাম সে রাখে নাই মনে
কার জন্য এত ব্যাথা সইলাম এ জীবনে
যার জন্য সব হারাইলাম সে রাখে নাই মনে
কার জন্য এত ব্যাথা সইলাম এ জীবনে

কেঁদে কয় জীবন দেওয়ানে সুখের জীবন তার ।
ভালবাসার ময়নাপাখি এখন জানি কার।

 

কলিজাতে দাগ লাগাইয়া লিরিক্স | Kolijate dag legeche lyrics | Jibon Dewan
বাউল শিল্পী

 

Kolijate dag legeche lyrics in roman :

Jar jonye ghor banailam se roilo na ghore
sei ghor uraia nilo kalboishakhi jhore
pranta amar chotfot kore buke hahakar
amar valobashar moyna pakhi ekhon jani kar
valobashar pakhi ekhon jani kar.

Shikol kata pakhir moto uraia se gelo
se din hote amar jibon shudhui elomelo
Shikol kata pakhir moto uraia se gelo
se din hote amar jibon shudhui elomelo

jater kule kali dilo
jater kule kali dilo kanna hoilo shar
amar valobashar moyna pakhi ekhon jani kar.

Kolijate dag legeche song lyrics in English:

Jar jonye ghor banailam se roilo na ghore
sei ghor uraia nilo kalboishakhi jhore
pranta amar chotfot kore buke hahakar
amar valobashar moyna pakhi ekhon jani kar
valobashar pakhi ekhon jani kar.

Shikol kata pakhir moto uraia se gelo
se din hote amar jibon shudhui elomelo
Shikol kata pakhir moto uraia se gelo
se din hote amar jibon shudhui elomelo

jater kule kali dilo
jater kule kali dilo kanna hoilo shar
amar valobashar moyna pakhi ekhon jani kar.

 

 

বাংলার বাউল

বাংলার বাউল বা বাউল সংগীত অদ্যাবধি গবেষকেরা যেমন কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দিতে পারেন নি, তবে বাউলের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এক কোনো গবেষক বলেছেন- সংস্কৃত “বায়ু” থেকে বাউল শব্দটির উৎপত্তি, বাংলার যে সব লোক “বায়ু” অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়ার সাহায্যে সাধনার মাধ্যমে আত্মিক শক্তি লাভ করার চেষ্টা করেন, তারাই বাউল।

কেও কেও বলেছেন, সংস্কৃত “বাতুল” শব্দ থেকে বাউল শব্দটির উৎপত্তি, এই গবেষকদের মতে- যে সব লোক প্রকৃতই পাগল, তাই তারা কোনো সামাজিক বা ধর্মের কোনো বিধিনিষেধ মানে না, তারাই বাউল। কেও বলেছেন “বাউর” শব্দ থেকে বাউলের উৎপত্তি, এর অর্থ এলো-মেলো, বিশৃঙ্খল, পাগল।

উৎপত্তি

শান্তিনিকেতনের বাটিক প্রিন্টিংয়ে বাউলের চিত্র।

বাউল শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে মতান্তর রয়েছে। অতিপ্রাচীনকাল থেকে বাউল শব্দটির প্রচলন লক্ষ করা যায়। আনুমানিক সপ্তদশ শতক থেকে বাউল নামের ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়, চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের আদিলীলা অংশে এর ব্যবহার লক্ষ করা করা যায়, চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে মহাপ্রভু, রামানন্দ রায় ও সনাতন গোস্বামীর নিকট কৃষ্ণ বিরহ বিধুর নিজেকে মহাবাউল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সেই থেকে অনুমান করা হয়,বাউল শব্দের উৎপত্তির কথা।

বাউলের রয়েছে নানাবিধ শাখাপ্রশাখা, একেক সম্প্রদায়ের বাউলেরা একেক মত অনুসারী, সেগুলো তাদের সম্প্রদায়ভেদে ধর্মীয় উপাসনার একটি অংশ।

বাউলদের প্রকারভেদ

গৃহত্যাগী বাউল

বাউলদের মধ্যে দুটি শ্রেণি আছে গৃহত্যাগী বাউল ও গৃহী বা সংসারী বাউল। যারা গুরুর নিকট দীক্ষা (ভেক খিলাফত) নিয়ে গৃহত্যাগ করে, তাদেরকে ত্যাগী বা ভেকধারী বাউল বলা হয়। এই শ্রেণির বাউলরা পুরোপুরি সংসার ও সমাজ বিমুখ, ভিক্ষাই তাদের একমাত্র পেশা। তারা আখড়ায় আখড়ায় ঘুরে বেড়ায় এবং সেখানে সাময়িকভাবে অবস্থান করে। পুরুষরা সাধারণত সাদা লুঙ্গি এবং সাদা আলখাল্লা এবং মহিলারা সাদা শাড়ি পরিধান করে।

তাদের কাধে থাকে ভিক্ষার ঝুলি। তারা সন্তান ধারণ বা প্রতিপালন করতে পারে না। এই ধরনের জীবনকে বলা হয় ‘জ্যান্তে মরা’ বা জীবন্মৃত। মহিলাদেরকে বলা হয় সেবাদাসী। পুরুষ বাউল এক বা একাধিক সেবাদাসী রাখতে পারে। এই সেবাদাসীরা বাউলদের সাধনসঙ্গিনী। ১৯৭৬ সাল অবধি বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় ২৫২ জন ভেকধারী বাউল ছিল। ১৯৮২-৮৩ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯০৫ জনে দাঁড়ায়। বর্তমানে সমগ্র দেশে ভেকধারী বাউলের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

সংসারী বাউল

গৃহী বা সংসারী বাউলরা স্ত্রী-পুত্র-পরিজনসহ লোকালয়ে একটি নিদিষ্ট আলাদা পাড়ায় বাস করেন। সমাজের অন্যদের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা, বিবাহ ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ভেকধারী বাউলদের মতো তাদের কঠোর সাধনা করতে হয় না, বরং ‘কলমা’ বা ‘বীজমন্ত্র’ পাঠ এবং নির্দিষ্ট কিছু সাধন-ভজন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই হয়। ভেকধারী বাউলরা গৃহী বাউলদের দীক্ষা দিয়ে থাকে। উভয়ের সম্পর্ক অনেকটা পীর-মুরিদের মতো। দীক্ষা নেওয়ার পর সন্তানধারণ নিষিদ্ধ, তবে গুরুর অনুমতিক্রমে কেউ কেউ সন্তান ধারণ করতে পারে।

বর্তমানে কৃষিজীবী, তন্তুবায় এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে বাউল হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে অনেকে কলকারখানার শ্রমিক ও দৈনন্দিন মজুর পর্যায়ভুক্ত। বাউলমতে দীক্ষিত হওয়ার পূর্বে বিবাহ হয়ে থাকলে নতুন করে কোনো অনুষ্ঠান করতে হয় না। ত্যাগী বাউলদের সেবাদাসী ‘কণ্ঠিবদল’ করে একজনকে ছেড়ে অন্য জনের সঙ্গে চলে যেতে পারে। বর্তমানে গৃহী বাউলদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও দেখুনঃ  

Leave a Comment