দুর্গম গিরি কান্তার মরু লিরিক্স | Durgomo giri kantar moru | কাজী নজরুল ইসলাম | সর্বহারা

দুর্গম গিরি কান্তার মরু লিরিক্স | কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে[১] ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।

দুর্গম গিরি কান্তার মরু লিরিক্স | Durgomo giri kantar moru | কাজী নজরুল ইসলাম | সর্বহারা

 

দুর্গম গিরি কান্তার মরু লিরিক্স :

দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে

দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে!

লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।।

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ-

ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত।

কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,

এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।।

তিমির রাত্রি, মাতৃ-মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান-

যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।

ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,

ইহাদেরে পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।।

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ-

কান্ডারী, আজি দেখিব তোমার মাতৃ-মুক্তি-পণ।

হিন্দু না ওরা মুসলিম-ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন,

কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র।।

গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গরজায় গুরু বাজ-

পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।

কান্ডারী, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?

করে হানাহানি, তবু চল টানি’-নিয়েছ যে মহাভার।।

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান-

আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা দিবে কোন বলিদান!

আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতেরে করিবে ত্রাণ,

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার।।

https://www.youtube.com/watch?v=vpcnWJyI4NM

[আমাদের সকল দু:সময়ে সবসময়ের প্রেরণা জাতী কবি, জাগরণের কবি, সাম্য, মৈত্রী আর সুন্দরের কবি নজরুলের জাগরনি গান। হে প্রিয় কবি আপনার বানীতেই আপনারে স্মরিলাম। আল্লাহ পাক আপনাকে জান্নাতে চিরশান্তিতে চিরস্থায়ী করুন।]\

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।[১] চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত। পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। তার বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম।

নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উম্মে কুলসুম। কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”। নজরুল গ্রামের স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। মক্তবে (মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল) কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯০৮ সালে তার পিতার মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর।

পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। একই সাথে হাজি পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদের মুয়াযযিন (আযান দাতা) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এইসব কাজের মাধ্যমে তিনি অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচার-অনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান যা পরবর্তীকালে তার সাহিত্যকর্মে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। তিনিই বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন বলা যায়।

Leave a Comment