ভবেরি ঘরে আলেক শহরে লিরিক্স | রেডিও-টিভির তালিকাভূক্ত শিল্পী তিনি নন। আধুনিক যন্ত্রপাতি আর স্টুডিওতেও ধারণ করা হয়নি তাঁর গান। তারপরও মোবাইলে ধারণ করা তাঁর গান ইউটিউবে শুনছে লাখ লাখ মানুষ। তিনি ফকির সাহেব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। নিজের জীবনের গল্প শুনিয়েছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ককে
ভবেরি ঘরে আলেক শহরে লিরিক্স | Bhaberi ghare alek sahare lyrics | ফকির সাহেব

ভবেরি ঘরে আলেক শহরে লিরিক্স :

Bhaberi ghare alek sahare lyrics :
বুলবুলি। সবাই কাইলানি কইয়াই ডাকত। ছোট বোনটা অনেক সুন্দর ছিল। নাম বিউটি। এরপর আমি হইলাম। আমাকে সাত বাড়ি ভিক্ষা কইরা আইনা খাওয়াইত, যেন বাঁচি। তারপর আমার নাম হইছে ফকির। যখন একটু খাড়া হইলাম, হাতের লেখা সুন্দর, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হই, তখন মা আমারে একটা ফিলোসফির ভেতরে দাঁড় করাইছিল। মা বলছিল, ‘বাবা, তোর কিছু সাহেবি কর্মকাণ্ড আছে। তুই তো সাহেব। ’ সেই থেকে আমি ফকির সাহেব। মূল নাম ওয়াজকুরুনী ফকির। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভোতামারি ইউনিয়নে বাড়ি।
চিহ্ন তবু রয়ে গেছে
তখন এসএস হাই স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ি। পড়তে পড়তে একসময় হাওয়া। সীমান্তে তখন তারকাঁটার বেড়া ছিল না। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মাথাভাঙা, দ্বীপহাটা—নানা জায়গায় গেলাম। সেখানে খোলটোল বাজাইতাম, গাইতাম।
শেষে শিলিগুড়ির রাজন হোটেলে মেসিয়ার হিসেবে কাজ নিলাম। ভালোই সময় কাটছিল। খালি একটা দাগ এখনো রয়ে গেছে পিঠে। একবার কাস্টমারের ভাষা বুঝিনি। এ জন্য আমার পিঠে গরম পানি ঢেলে দিছিল। ম্যালা দিন টাইম লাগছিল সারতে। ওইখান থেইক্যা বাড়িতে চইলা আইলাম। আবার স্কুলে গেলাম। স্কুল কামাই করতাম। এ জন্য একবার হেড স্যার পিডাইছিল ইচ্ছামতো। পরে তো কমার্স থেকে ৪.৬৩ (জিপিএ) পাইলাম। ভর্তি হইলাম আলীমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে।
গুরুর নাম আশরাফ ভাণ্ডারী
আমার একজন শিক্ষাগুরু আছেন। আশরাফ ভাণ্ডারী। মোটা মোটা বই পড়েন; কিন্তু লোকটার কোনো সার্টিফিকেট নাই। তিনি শাকসবজির বীজ বিক্রি করতেন। কলেজে পড়ার সময় তাঁর বাসায় থাকতাম। ওইখানে গানবাজনা হইত। উনি আমাকে রাতের বেলায় সাইকেলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়া যাইতেন গানবাজনা শোনার জন্য। কলেজে ভর্তি হইয়া আবার টাউটারি শুরু কইরা দিছি। পাতার বিড়ি খাইতাম খুব। যা হোক, কলেজে আর্টস থেকে ৪.০০ পাইলাম।

মায়ের সঙ্গে
এবার গার্মেন্টে
এইচএসসি পরীক্ষার পরে তো পোলাপাইন ভর্তি কোচিং করে। আমি কী করব? কোচিং করার জন্য টাকা থাকা লাগব না? তারপর গার্মেন্ট করতে আইলাম। সফিপুরে (গাজীপুর) ময়েজউদ্দিন গার্মেন্ট। গার্মেন্টে যাইয়া খাড়াই থাকি। মেজাজ খারাপ। এক মাস ছিলাম। কোয়ালিটিম্যান। বেতন পাঁচ হাজার টাকা।

আমার বন্ধু দিদার
আশরাফুজ্জামান দিদারের বাড়ি হাতীবান্ধার কালীবাড়িতে। আমাকে খুব পছন্দ করত। বলল, তোর জন্য নাট্যকলা পারফেক্ট। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা আছে তা-ও সে খুঁজে বের করল। সেকেন্ড টাইম ভর্তি পরীক্ষার সময় আমাকে নিয়ে এলো ঢাকায়। ২০১৩-১৪ সেশনে ভর্তি হলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। টাকা-পয়সা সব সে দিছে। ক্যাম্পাসে আইসা আবার থাকার জায়গা নাই। গাছের তলে ঘুমাই। পরে ঠিকানা হইলো শহীদ রফিক-জব্বার হল।

মোশাররফ করিমের সেলফিতে
আরও দেখুনঃ