মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী লিরিক্স | কলকাতার নিকটবর্তী মফস্সলের মেয়ে আমি। আমার জন্ম নৈহাটির কাছাকাছি ভাটপাড়ায়।
মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী লিরিক্স | Manush Boro Ovimani Prani Lyrics | Munmun Mukherjee
Poem : Manush Boro Ovimani Poem Prani
Written by : Sadat Hossain
Recited by : Munmun Mukherjee
Camera : Nilanjan
Recrding & Mixing : Kaushik Som
Assist : Parto, Shiladitya

মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী লিরিক্স:
সে চায় তার মনখারাপ হলে,
প্রিয় মানুষটাকে না বললেও
সে বুঝে ফেলুক।ফোন করে খানিক ম্লান গলায়
হ্যালো বলতেই,
ওপারের মানুষটা বলুক
তোমার মনখারাপ?
তার এলোমেলো চুল খানিকটা
লাল চোখ দেখে বলুক,
তোমার ঘুম হয়নি রাতে?
দুঃস্বপ্ন দেখেছো?
টেনশন করছো কিছু নিয়ে?সে চায়, মানুষটা বুঝুক
কখন শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরতে হয়,
চোখের সামনে আলতো করে হাত ছুঁইয়ে
বন্ধ করে দিতে হয় চোখের পাতা।সে চায়, মানুষটা বুঝুক
কখন হাতের মুঠোয় হাত রাখতে হয়,
ফিসফিসিয়ে বলতে হয়
আমি তো আছি;
তবে, মনখারাপ কেন?সে চায়, মাঝরাত্রিতে সে টের পাক
পাশের মানুষটা তার মাথার নীচের
সরে যাওয়া বালিশটা ঠিক করে দিচ্ছে,
শেষ রাতে যখন খানিকটা হিম নামে
তখন জড়িয়ে দিচ্ছে ওম চাদরে।
সে চায়, তার জন্য মাঝরাত্রিরেও কেউ
বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকুক,
মনে রাখুক তার জন্মদিনের কথা
প্রথম দিনের কথা,
স্পর্শ অনুভূতির কথা।
সে চায়, তাকে ছুঁয়ে দেখতে গিয়ে
কেউ মিথ্যে মিথ্যে অজুহাত বানাক,
কেউ কপাল ছুঁয়ে বলুক
দেখি দেখি তোমার জ্বর নয় তো?
অভিমানে দূরে সরে যেতে চাইতেই
কেউ বলুক, খানিক ভুল করেছি বলেই
দূরে সরে যেতে হবে?
তবে এই যে এত ভালোবাসি
তাতে আরও কাছে আসে যায়না?
আরও আরও কাছে,
অনেক অনেক কাছে।
মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী
তারা দু’জনই কেবল ভাবে,
এসবই ঐ মানুষটা করুক
ঐ অন্য মানুষটা,
কিন্তু শেষমেশ করা হয়না কারোরই।
তাই কাছে আসার রঙিন দিনেরা
ক্রমাগত দূরে যাওয়ার ধূসর বিবর্ণ গল্প হয়।
মানুষ বড্ড অভিমানী প্রাণী
অভিমানে সে ক্রমশঃই দূরে চলে যায়,
আর বুকে পুষে রাখে এক সমুদ্র আক্ষেপ।

Manush Boro Ovimani Prani Lyrics :
Manush Boro Ovimani Prani
Se chaay taar monkharap hole
Priyo manushtake na bolleo
Se bujhe pheluk
Phone kore khanik mlan golay
hello boltei
Oparer manush ta boluk
Tomar monkharap?
Tar elomelo chul khanikta
Laal chokh dekhe boluk
Tomar ghum hoyni raate?
Dushopno dekhecho?
Tension korcho kichu niye?
বড় হওয়ার পর রাতের কলকাতা বড্ড টানত আমায়। কর্মস্থল একেবারে দক্ষিণে আর বাড়ি উত্তরে। মাঝরাতে যখন শুটিং শেষে ফিরতাম, আজও ফিরি অদ্ভুত মায়াবী লাগে কলকাতাকে। আর কোনও শহর ভারতবর্ষের মধ্যে বা বাইরে কখনও এমন ভাবে টানেনি, এত মায়াবি লাগেনি। এ বোধটা আরও বেশি কারণ মাঝের বেশ কয়েকটা বছর প্রবাসে কাটাতে হয়েছে। আর সেখানে গিয়ে আরও বেশি করে, আরও অনেক অনেক বেশি করে বুঝেছি কলকাতা কতটা আপন।
ধুলো ধোঁয়া, যানজট, প্যাঁচপ্যাঁচে গরম, বর্ষার এক হাঁটু জল, লোড শেডিং, দারিদ্র্য— তবু তার মধ্যেই প্রাণ ভরে শ্বাস নিতাম যখন আমার এই শহরটায় ক’দিনের জন্য ফিরতাম। বিদেশের সুসজ্জিত ঝাঁ-চকচকে বৈভবে মোড়া শহরটাকে এক দিনের জন্যেও আপন ভাবতে পারলাম না কখনও। এখানকার অটো, টোটো, রিকশাতে চড়ে যে চওড়া হাসিটা আসত, তা কখনও দামি বিদেশি গাড়িতে চেপেও এক মুহূর্তের জন্যও আসেনি।

একটা কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম দুবাইতে থাকার সময়েই, তসলিমা নাসরিনের ‘কলকাতা প্রিয় কলকাতা’। কবিতাটাই তার পর সাড়া পৃথিবী জুড়ে স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ারিং হয়েছে, বিশেষত অনাবাসী বাঙালিদের মধ্যে। প্রথম লাইন ছিল ‘কলকাতা কেমন আছ তুমি?’। নির্বাসিত ছিলাম না, কেউ জোর করে শহরটা থেকে বার করে দিয়েছেন তেমনও নয়। তবু প্রয়োজনের তাগিদে কলকাতা ছেড়েও হয়তো আমার আত্মাই, মননে-জীবনে নির্বাসিতই হয়ে যায়।

আর অসীম তৃষ্ণা থেকে সেই শহরটার প্রতি, যেখানে থেকে তার আগে বহু বছর ধরে শুধু অপ্রাপ্তিরই হিসেব করে এসেছি। কিন্তু খুব আপনজন যেমনই হোক, সে তো সব সময় নিজেরই। ঠিক তেমনই আমার শহরটা ভাল-মন্দে আমারই, আমাদের একান্ত আপন। তাই আর কখনও ভেজা চোখে একান্তে, নিভৃতে দূর দূ-উ-র থেকে তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই না— ‘কলকাতা কেমন আছ তুমি’?