খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই অক্টোবর ২০২২, ৯:২২ এএম
মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে লিরিক্স | অহিদুর রেজা বা দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী (ছদ্মনাম) (২১ ডিসেম্বর ১৮৫৪ – ৬ ডিসেম্বর ১৯২২; ৭ পৌষ ১২৬১ – ২২ অগ্রহায়ণ ১৩২৯ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাংলাদেশের একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রাজা। মরমী সাধনা বাংলাদেশে দর্শনচেতনার সাথে সঙ্গীতের এক অসামান্য সংযোগ ঘটিয়েছে।
Song : Matiro Pinjirar Majhe Bondi Hoiya Re
Lyrics : Hason Raja
Singer : Saif Zohan
Music : R Joy
মাটির পিঞ্জরার মাঝে বন্দি হইয়ারে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
হায়রে কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
মাটির পিঞ্জরার মাঝে বন্দি হইয়ারে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
হায়রে কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
মায়ে বাপে বন্দি হইলা খুশিরও মাঝারে
মায়ে বাপে বন্দি হইলা খুশির মাঝারে
লালে ধলায় হইলাম বন্দি পিঞ্জরার ভিতরে রে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
হায়রে কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
পিঞ্জরায় সামাইয়া ময়নায় ছটফট ছটফট করে
পিঞ্জরায় সামাইয়া ময়নায় ছটফট ছটফট করে
মজবুতও পিঞ্জিরা ময়নায়
ভাঙ্গিতে না পারে রে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
হায়রে কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
উড়িয়া যাইব শুয়া পাখি পড়িয়া রইব কায়া
উড়িয়া যাইব শুয়া পাখি পড়িয়া রইব কায়া
কিসের দেশ কিসের কেঁশ কিসের মায়া দয়ারে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
হায়রে কাঁন্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে
Matir O Pinjirar Majhe Bondi Hoia Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re
Matir O Pinjirar Majhe Bondi Hoia Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Maye Bape Koira Bondi Khushiro Majare
Maye Bape Koira Bondi Khushiro Majare
Lale Dholay Hoilam Bondi
Pinjirar Bhitore Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Pinjiray Shamaia Moinay
Chotfot Chotfot Kore
Pinjiray Shamaia Moinay
Chotfot Chotfot Kore
Mojbuto Pinjira Moina
Bhangite Na Pare Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Matir O Pinjirar Majhe Bondi Hoia Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re
Matir O Pinjirar Majhe Bondi Hoia Re
Kande Hason Rajar Mon Moniay Re
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Hayre kande hason razar mon moniay re..
Hayre kande hason razar mon moniay re..
হাছন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সেকালের সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে। হাছন রাজা জমিদার পরিবারের সন্তান। তার পিতা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার। হাসন রাজা তার তৃতীয় পুত্র। আলী রাজা তার খালাতো ভাই আমির বখ্শ চৌধুরীর নিঃসন্তান বিধবা হুরমত জাহান বিবিকে পরিণত বয়সে বিয়ে করেন। হুরমত বিবির গর্ভেই হাছন রাজার জন্ম। হাছনের পিতা দেওয়ান আলী রাজা তার অপূর্ব সুন্দর বৈমাত্রেয় ভাই দেওয়ান ওবেদুর রাজার পরামর্শ মত তারই নামের আকারে তার নামকরণ করেন অহিদুর রাজা।
হাছন রাজার পূর্বপুরুষেরা হিন্দু ছিলেন। তাদেরই একজন বীরেন্দ্রচন্দ্র সিংহদেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হাছন রাজার পুর্বপুরুষের অধিবাস ছিল অয্যোধ্যায়। সিলেটে আসার আগে তারা দক্ষিণবঙ্গের যশোর জেলার কাগদি নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার কোণাউরা গ্রামে তার পূর্ব পুরুষ বিজয় সিংহ বসতি শুরু করেন, পরে কোন একসময় বিজয় সিংহ কোণাউরা গ্রাম ত্যাগ করে একই এলাকায় নতুন আরেকটি গ্রামের গোড়াপত্তন করেন এবং তার বংশের আদি পুরুষ রামচন্দ্র সিংহদেবের নামের প্রথমাংশ “রাম” যোগ করে নামকরণ করেন রামপাশা।[৬]
সিলেটে তখন আরবী-ফার্সির চর্চা খুব প্রবল ছিল। সিলেটে ডেপুটি কমিশনার অফিসের নাজির আবদুল্লা বলে এক বিখ্যাত ফার্সি ভাষাভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মতে তার নামকরণ করা হয়- হাসন রাজা। বহু দলিল দস্তাবেজে হাসন রাজা আরবি অক্ষরে নাম দস্তখত করেছেন- হাসান রাজা। হাসন দেখতে সুদর্শন ছিলেন।
মাজহারুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, “বহু লোকের মধ্যে চোখে পড়ে তেমনি সৌম্যদর্শন ছিলেন। চারি হাত উঁচু দেহ, দীর্ঘভূজ ধারাল নাসিকা, জ্যোতির্ময় পিঙ্গলা চোখ এবং একমাথা কবিচুল পারসিক সুফীকবিদের একখানা চেহারা চোখের সম্মুখে ভাসতো।”(পৃ. ১৪, ঈদ সংখ্যা ‘হানাফী’, ১৩৪৪)”। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে তিনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেন।
উত্তারিধাকার সূত্রে তিনি বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন। প্রথম যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগবিলাসী এবং শৌখিন। রমণী সম্ভোগে তিনি ছিলেন অক্লান্ত। তার এক গানে নিজেই উল্লেখ করেছেন-
প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষাকালে নৃত্য-গীতের ব্যবস্থাসহ তিনি নৌকায় চলে যেতেন এবং বেশ কিছুকাল ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করে দিতেন। এর মধ্যেই বিশেষ বিশেষ মুহুর্তে তিনি প্রচুর গান রচনা করেছেন, নৃত্য এবং বাদ্যযন্ত্রসহ এসব গান গাওয়া হত। আশ্চর্যের বিষয় হল, এসব গানে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে, ভোগ-বিলাসের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
হাছন রাজা পাখি ভালোবাসতেন। ‘কুড়া’ ছিল তার প্রিয় পাখি। তিনি ঘোড়া পুষতেন। তার প্রিয় দুটি ঘোড়ার নাম ছিল জং বাহাদুর এবং চান্দমুশকি।এই ভাবে হাছন রাজার মোট ৭৭টি ঘোড়ার নাম মিলে মোটকথা, শৌখিনতার পিছনেই তার সময় কাটতে লাগলো। আনন্দ বিহারে সময় কাটানোই হয়ে উঠলো তার জীবনের একমাত্র বাসনা। তিনি প্রজাদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে লাগলেন। অত্যাচারী আর নিষ্ঠুর রাজা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠলেন।
মন্তব্য