খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই অক্টোবর ২০২২, ১০:১৬ এএম
কি করে তারে বলো ইমান বলি লিরিক্স | গজল গানের কলিগুলোর অর্থ প্রায়ই দ্ব্যর্থবোধক। প্রেম যখন পুরুষ বা নারীর প্রতি নিবেদিত হয় তখন সে গজল মানব-প্রেম বা পার্থিব-প্রেম, আবার প্রেম যখন স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয় তখন তা আধ্যাত্মিক প্রেম। তাই গজল গান এক ধরনের ‘ভাব-সঙ্গীত’ বলেও পরিচিত।
যে ইমান প্রয়োজনে জ্বলে উঠে না
যে ইমান সত্য ন্যায়য়ের কথা বলেনা ।
যে ইমান বাস্তবে নাই, যে ইমান অন্তরে নাই
মুখে শুধু ফাঁকা বুলি ।
কি করে তারে বলো ইমান বলি
কি করে তারে বলো ইমান বলি
কি করে তারে বলো ইমান বলি ।
যে ইমান দ্বীন কায়েমের আন্দলনের ধার ধারে না ।
যে ইমান লেবাসধারী, কোরআন, হাদীস তাও পড়ে না ।
যে ইমান খাজার নামে মাজার গড়ে ফুলোস কামায় ।
যে ইমান শীরকিয়াতের আমল করে ভীত না হয় । (২)
যে ইমান বাস্তবে নাই, যে ইমান অন্তরে নাই
মুখে শুধু ফাঁকা বুলি ।
কি করে তারে বলো ইমান বলি ।
কি করে তারে বলো ইমান বলি…
কি করে তারে বলো ইমান বলি ।
যে ইমান ইমান ভুলে নাস্তিকতার মঞ্চে উঠে
যে ইমান বাতিল মতের দোসর হয়ে ফায়দা লোটে
যে ইমান শুধুই কেবল খায়দায় আনন্দ করে
যে ইমান দেখেনা যে আরাকানে ভাইরা মরে
যে ইমান ইমান ভুলে নাস্তিকতার মঞ্চে উঠে
যে ইমান বাতিল মতের দোসর হয়ে ফায়দা লোটে
যে ইমান শুধু কেবল খায়দায় আনন্দ করে
যে ইমান দেখেনা যে ফিলিস্তানে ভাইরা মরে
যে ইমান ময়দানে নাই, যে ইমান বাস্তবে নাই
মুখে শুধু ফাঁকা বুলি।
কি করে তারে বলো ইমান বলি ।
কি করে তারে বলো ইমান বলি…
কি করে তারে বলো ইমান বলি
গজল(আরবি: غَزَل, বাংলা: গজল, Hindi-Urdu: ग़ज़ल/غزَل, ফার্সি: غزل, আজারবাইজানি: qəzəl, তুর্কি: gazel, তুর্কমেনীয়: gazal, উজবেক: gʻazal, গুজরাটি: ગઝલ) আরব থেকে এর উৎপত্তি হলেও ফার্সি ভাষায় এটি বিশেষ বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে উর্দু ভাষায় এটি সমধিক জনপ্রিয়তা পায়। আরবি, ফার্সি, পশতু, উর্দু ছাড়াও হিন্দি, পাঞ্জাবী, মারাঠি, বাংলা এমনকি ইংরেজিতেও গজল লেখা হয়।
প্রাথমিক দিকে ইমাম গাযালী, মওলানা জালালুদ্দিন রুমী, হাফীজ সীরাজী, ফারুখউদ্দীন আত্তার, হাকীম শানাঈ প্রমুখ গজল লিখে বেশ নাম করেন। পরবর্তিতে আমির খসরু, মীর তাকী মীর, ইব্রাহীম জক, মীর্জা গালিব, দাগ দেলবী এবং আধুনিক কালে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, ফিরাক গোরখপুরী গজল লেখক হিসাবে নাম করেন।
আরবি শব্দ غزل (গাজল) থেকে গজল শব্দের উৎপত্তি। মূল সিলেবল গা-যা-ল এর আরবীতে তিনটি সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে:
কাব্যিক ফর্মটি প্রথম এবং দ্বিতীয় ব্যুৎপত্তিগত শিকড় থেকে এর নামটি এসেছে, একটি বিশেষ অনুবাদে গজল এর অর্থ হল ‘আহত হরিণের হাহাকার’,যা সম্ভাব্যভাবে অনেক গজলের জন্য সাধারণ অপ্রচলিত প্রেমের থিমের প্রসঙ্গ সরবরাহ করে।
আরবি শব্দ غزل গায’আল [ˈɣazal] উচ্চারিত হয়, অনেকটা ইংরেজি শব্দ ‘গুজ্জল’-এর মতো।, কিন্তু জিহ্বা এবং নরম তালু এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছাড়াই উচ্চারিত জ’ এর সাথে।
গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আবার হালকা-গম্ভীর রসের মিশ্রণে সিক্ত আধ্যাত্মিক গান। গজল প্রেমিক-প্রেমিকার গান হলেও এ গান এমন একটি শৈলী যাতে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিলন ঘটেছে। পার্থিব প্রেমের পাশাপাশি গজল গানে আছে অপার্থিব প্রেম, যে প্রেমে স্রষ্টার প্রতি আত্মার আকূতি নিবেদিত। গজল গানে স্রষ্টা আর তার প্রেরিত মহাপুরুষদের প্রতি ভক্তির সঙ্গে মোক্ষ লাভের ইচ্ছা এসে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে পার্থিব প্রেমের সঙ্গে।
গজল গান উর্দু ও ফার্সি ভাষায় রচিত এক ধরনের ক্ষুদ্রগীত। আমির খসরু এ গানের স্রষ্টা এবং প্রচারের ক্ষেত্রেও তার অবদান অপরিসীম। তিনি সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজিকে প্রতিরাতে একটি করে গজল শোনাতেন।
গজল গানে কথা বেশি, সুরের প্রাধান্য কম। মূলত হালকা ধরনের গান হলেও সব ধরনের রচনাই এ গানের বিষয়বস্তু হতে পারে। উচ্চভাবপূর্ণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ রচনাও কোন কোন গানে দেখা যায়। এ গানে অনেকগুলো চরণ, কলি বা তুক্ থাকে। প্রথম কলি ‘স্থায়ী’ এবং বাদবাকি কলিগুলো ‘অন্তরা’
গজল ভালো গাইতে হলে ভালো ভাষা-জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। টপ্পা ও ঠুমরির মতো গজল প্রধানত কাফি, পিলু, ঝিঝিট, খাম্বাজ, বারোয়া, ভৈরবী রাগে গাওয়া হয়। গজল গানে একটি বিশেষ আবেদন আছে, তাই এ গান শ্রোতার মনকে রসে আপ্লুত করে তোলে। গজল খুবই জনপ্রিয় গান। সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, মীর্জা গালিব, দাগ, জওক, আরজু প্রমুখ অনেক কবি অজস্র সুন্দর সুন্দর গজল রচনা করে গেছেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান, নবাব ওয়াজেদ আলী শাহর মতো ইতিহাস-প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের রচিত অনেক গজল গানের সন্ধান পাওয়া যায়। বাংলা ভাষায় বেশকিছু গজল রচিত হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা গজল রচনায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।
‘গজল’ শব্দটি আরবি থেকেই চয়িত। এ শব্দের আক্ষরিক অর্থ, প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথন। গজলের পরিভাষায় উল্লেখ হয়েছে, ‘তারুণ্যের পরিস্থিতি বর্ণনা করুন অথবা প্রেমাস্পদের সঙ্গে সংসর্গের উল্লেখ করুন এবং ভালোবাসার চর্চা করুন কিংবা রমণীর সঙ্গে বাক্যালাপ করুন। তাই পরিভাষায় বর্ণিত বিষয়কে অবলম্বন করে গজল রচিত গানকে ‘প্রণয়-সঙ্গীত’ বলেও চিহ্নিত করা হয়। গজল আবার ‘কাব্য-সঙ্গীত’ নামেও পরিচিত। কারণ গজল গানে শৃঙ্গার রস যেমন মিলন আর বিরহের কথা বলে তেমনি তাতে ভক্তির কথাও উচ্চারিত হয়। দু’ধরনের ভাবের অভিব্যক্তি শৃঙ্গার রসে পরিপূর্ণতা আনে।
অন্যদিকে গজল গান রচনায় যে বাণী প্রয়োগ করা হয় তাতে সব ধরনের রসের সমাবেশ দেখা যায়। ফলে গজল গান কাব্যের গুণে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। তাই গজল শৃঙ্গার রসাÍক গান হলেও এক ধরনের ‘কাব্য-সঙ্গীত’।
মন্তব্য