খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই নভেম্বর ২০২২, ৫:৩৮ এএম
কি ছিলে আমায় বলনা তুমি লিরিক্স | এক সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোর। এই কণ্ঠশিল্পীর ‘কি ছিলে তুমি আমার’ গানটি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে। এ ছাড়াও এই শিল্পীর ‘আমি মরে গেলে’ ও ‘চলে যাব সব ছেড়ে নিয়ে বেদনা’সহ আরও অনেক গান জনপ্রিয়। তবু নিজের জন্য আজও কোনো গান করতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন তিনি। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, কতো গান গাইলাম জীবনে, নিজের জন্য একটাও গাইলাম না। মনে থাকার মতো, মনে রাখার মতো, একটা গানও পেলাম না?
গানঃ কী ছিলে আমার
শিল্পীঃ মনি কিশোর
কথা ও সুরঃ মনি কিশোর
ছায়াছবিঃ কে অপরাধী
কি ছিলে আমার, বলনা তুমি?
আছিতো আগেরই মত এখনো আমি।
কথায় কথায় জানালেন, মনি কিশোর তাঁর পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম মনি মণ্ডল। কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন। ‘কুমার শানু নিয়েছেন “ওস্তাদের” নামের একাংশ। আমি নিয়েছি তাঁর নামের আরেক অংশ,’ হাসতে হাসতে বললেন মনি কিশোর।
ত্র ছয় লাইনে গান হয় নাকি! গানটিকে অ্যালবামে রাখতেই চাননি শিল্পী। সেই গান ‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’ শ্রোতারা লুফে নিল। রাত পোহানোর আগেই মনি কিশোরের নাম জেনে গেল গোটা দেশ। নব্বই দশকের শুরুতে ‘চার্মিং বউ’ অ্যালবামের এক গান তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিল বাজারকাটতি অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে। একে একে ৩০টির বেশি একক অ্যালবাম করে ফেললেন। তারপর একসময় অডিও জগতে ঘটল পালাবদল। এখন কোথাও মনি কিশোরের দেখা মেলে না।
কোথায় আছেন ‘উৎসব’, ‘এই তুমি সেই তুমি নেই তুমি’, ‘কী করে ভাবলে’, ‘আমাকে ভালোবাসা সে তোমার প্রথম ভুল’-এর মতো সফল অ্যালবামের শিল্পী? আছেন এই ঢাকা শহরেই। থাকেন বাসাবো এলাকায়। জড়িত আছেন কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে। অবশ্য ব্যবসাটাই বরাবর করেছেন। গানের জগতে আসার আগেও ব্যবসা করতেন। যখন ব্যস্ত শিল্পী ছিলেন, তখনো ব্যবসাটাকে ছাড়েননি। গানের সঙ্গে কি সব সম্পর্ক চুকে গেল?
মনি কিশোর জানালেন, ১০ থেকে ১২ বছর আগে শেষবারের মতো অ্যালবামে গেয়েছেন। টিভিতে ‘লাইভ’ গেয়েছেন সে-ও বছরখানেক হয়ে গেল। পেশাজীবীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাঝেমধ্যে গাওয়ার ডাক আসে। পুলিশ, কাস্টমস, পর্যটন—এ রকম পেশার মানুষের ঘরোয়া আসরে গাইতে যান। কনসার্ট তথা স্টেজ শোতে তাঁর যাওয়া হয় না। গান এখনো তাঁকে তাড়া করে ফেরে। টুকটাক গান ইউটিউবে ছাড়েন। চলতি বছরই এমন দু-একটি গান ইউটিউবে ছেড়েছেন। সেগুলো পুরোনো গান নয়, নতুন গানই গেয়েছেন।
আসলে এখনকার গানের সঙ্গে তাল মেলাতে পারঙ্গম নন মনি কিশোর। তাঁর মতে, গান হয়ে গেছে দেখার বিষয়। তাঁদের সময়ে ছিল উল্টো। স্মৃতি হাতড়ালেন মনি কিশোর। ‘আমাদের সময়ে গানটা ছিল অদেখার প্রতি আকর্ষণ। ছিল অনুভব করার বিষয়। ঈদে একটা অ্যালবাম আসবে। ভক্তরা ক্যাসেটের দোকানে গিয়ে খোঁজ নিতেন। ১৫ রোজা যায়, ২০ রোজা যায়। প্রতিদিন শ্রোতারা খবর নেন ক্যাসেট এসেছে কি না।
আমরা আরামবাগে প্রেসে গিয়ে দেখতাম, অ্যালবামের পোস্টারটা কেমন হলো। গানের পরিবেশটা ছিল অন্য রকম। সন্ধ্যায় সুরকার, গীতিকার ও শিল্পী মিলে আড্ডা দিতাম। সবাই বসে কেমন গান করব, কীভাবে করব—এসব নিয়ে কত কথা।’
মন্তব্য