খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই নভেম্বর ২০২২, ৭:৩ এএম
রবীন্দ্রসংগীতের এক অনন্য উচ্চমার্গীয় গান হলো “তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে”। এটি কেবল একটি গান নয়, বরং এটি পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার মিলনের এক গভীর আধ্যাত্মিক আর্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দার্শনিক চিন্তাধারার এক অপূর্ব প্রতিফলন ঘটেছে এই গানে, যেখানে দুঃখ, মৃত্যু ও বিচ্ছেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে এক অখণ্ড পূর্ণতার সন্ধান করা হয়েছে। পিয়া চক্রবর্তীর কণ্ঠে এবং অনুপম রায়ের সংগীতায়োজনে এই গানটি আধুনিক সময়ে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
| শিরোনাম | তথ্য |
| গানের নাম | তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে |
| গীতিকার ও সুরকার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| শিল্পী | পিয়া চক্রবর্তী |
| সংগীত আয়োজন | অনুপম রায় |
| গানের ধরন | রবীন্দ্রসংগীত (পূজা পর্যায়) |
রবীন্দ্রসংগীত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত গান, যা বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। “তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে” গানটি রবীন্দ্রসংগীতের ‘পূজা’ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই গানে কবি ঈশ্বর বা পরম সত্তাকে অসীমের সাথে তুলনা করেছেন। অসীমের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের সকল ভয়, গ্লানি ও বিচ্ছেদ দূর হতে পারে—এই দর্শনেই গানটি আবর্তিত। পিয়া চক্রবর্তীর কণ্ঠে এই গানের সহজবোধ্য অথচ গভীর আবেদন তরুণ প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রদর্শনকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই,
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু,
কোথা বিচ্ছেদ নাই।
তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই।
মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ
দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ,
তোমা হতে যবে হইয়ে বিমুখ
আপনার পানে চাই।
হে পূর্ণ তব চরণের কাছে
যাহা কিছু সব আছে, আছে, আছে,
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই,
নিশিদিন কাঁদি তাই।
অন্তরগ্লানি সংসারভার
পলক ফেলিতে কোথা একাকার,
জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার
রাখিবারে যদি পাই।
তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই,
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু,
কোথা বিচ্ছেদ নাই।
তোমারো অসীমে প্রাণমন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই।
Tomaro asime pranomon loye
Joto dure ami dhai,
Kothao dukkho, kothao mrittu,
Kotha bicched nai.
Tomaro asime pranomon loye
Joto dure ami dhai.
Mrittu se dhore mrittur rup
Dukkho hoy he dukkh-er kup,
Toma hote jobe hoi-ye bimukh
Apnar pane chai.
He purno tobo choroner kache
Jaha kichu sob ache, ache, ache,
Nai nai bhoy, se shudhu amari,
Nishidin kadi tai.
Ontorglani shongshar-bhar
Polok pellite kotha ekakar,
Jiboner majhe swarup tomar
Rakhibare jodi pai.
Tomaro asime pranomon loye
Joto dure ami dhai,
Kothao dukkho, kothao mrittu,
Kotha bicched nai.
Tomaro asime pranomon loye
Joto dure ami dhai.
গানটির মূল ভাব হলো—‘অসীমের মধ্যে বিলীন হয়ে অদ্বৈত সত্তা লাভ’। কবি বলছেন, যতক্ষণ আমরা পরম সত্তা (ঈশ্বর) থেকে বিমুখ থাকি, ততক্ষণই আমাদের জীবনের দুঃখ, মৃত্যু ও বিচ্ছেদের ভয় তাড়া করে। যখনই আমরা “আপনার পানে” (নিজস্ব ক্ষুদ্র অহং) তাকাই, তখনই সৃষ্টি হয় বিচ্ছেদ। অথচ, “হে পূর্ণ তব চরণের কাছে / যাহা কিছু সব আছে”—এই চরণের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, পরম সত্তার কাছে সব কিছুই বর্তমান ও অখণ্ড। “অন্তরগ্লানি সংসারভার”—আমাদের জীবনের এই সব গ্লানি ও বোঝা এক পলকেই মুছে যেতে পারে যদি আমরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পরমাত্মার স্বরূপ বা অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারি।
উৎস (Sources)
এই নিবন্ধের লিরিক্স এবং রবীন্দ্রসংগীত বিষয়ক তথ্যসমূহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতান, রবীন্দ্রসংগীতের স্বরলিপি গ্রন্থাবলি এবং রবীন্দ্র-দর্শনের বিভিন্ন আর্কাইভ থেকে যাচাই করে সংকলন করা হয়েছে। গানটি শোনার লিঙ্ক:
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য