খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতি প্রচারে নিজের গান ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের আনুষ্ঠানিক টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে তার ২০২৪ সালের হিট গান ‘বাই’ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। গ্র্যান্ডের এই ক্ষোভ আবারও শিল্পীদের রাজনৈতিক বার্তা থেকে নিজেদের কাজকে বিচ্ছিন্ন রাখার অধিকারের বিষয়টি সামনে এনেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছেন এবং তাদের হাতে হাতকড়া পরাচ্ছেন। দৃশ্যগুলো অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “বাই-বাই, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ সীমান্ত নিশ্চিত করেছেন।” এই ক্যাপশনটি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিমালার প্রতি সমর্থন এবং তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেননি। তিনি ভিডিওটির মন্তব্য ঘরে সরাসরি লেখেন, “দয়া করে আমার সংগীত এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যবহার করবেন না।” গ্র্যান্ডের মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি থেকে তার গানের অডিও সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। তার এই দ্রুত এবং জোরালো প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের এবং শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে।
তবে হোয়াইট হাউজ এই প্রতিবাদকে সহজভাবে নেয়নি। তাদের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন গ্র্যান্ডের মন্তব্যের জবাবে বলেন, “অপরাধী অবৈধ অভিবাসীরাই প্রকৃতপক্ষে অমানবিক ও জঘন্য কাজের জন্য দায়ী।” এই মন্তব্য মার্কিন অভিবাসন বিতর্কের দুটি বিপরীত মেরুকে তুলে ধরে, যেখানে একপক্ষ সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং অন্যপক্ষ মানবাধিকার ও মানবিকতাকে গুরুত্ব দেয়।
অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে শুধু একজন বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা নন, তিনি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের জন্যও সুপরিচিত। তিনি বিভিন্ন সময়ে অধিকার আদায়ের পক্ষে সরব হয়েছেন এবং নিজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। চলতি বছরের গোল্ডেন গ্লোবস অনুষ্ঠানেও তাকে একটি প্রতিবাদী ব্যাজ পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল, যা তার সক্রিয় রাজনৈতিক চেতনারই প্রতিফলন।
শিল্পীদের গান বা শিল্পকর্ম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় গান ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবিবিএ, অ্যাডেল এবং জন ফগার্টির মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। তারা প্রত্যেকেই তাদের সৃষ্টিকর্মকে এমন কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করতে চাননি, যার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস মেলে না। সম্প্রতি, পপ তারকা অলিভিয়া রদ্রিগোও অভিবাসনবিষয়ক একটি সরকারি ভিডিওতে তার গান ব্যবহারের বিরোধিতা করে একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনাগুলো শিল্পী ও তাদের সৃজনশীল কাজের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি চলমান প্রবণতাকে নির্দেশ করে। শিল্পীরা তাদের গানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেন, কিন্তু যখন তাদের কাজকে তাদের সম্মতি ছাড়াই ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তখন তা তাদের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং বিতর্কের জন্ম দেয়। অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডের প্রতিবাদ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি সকলের সামনে তুলে ধরলো। এটি শিল্পীদের তাদের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক অবস্থানের গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশেষ করে যখন তা সংবেদনশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াবলীর সঙ্গে জড়িত।
মন্তব্য