খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৮ এএম

‘ওহে কী করিলে বলো’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কালজয়ী ও বিখ্যাত প্রেম পর্যায়ের রবীন্দ্রসংগীত। মূল গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৮৮৫ সালে রচিত হয়েছিল এবং এটি মিশ্র ইমন রাগে ও দাদরা তালে নিবদ্ধ। তবে বর্তমান সময়ে এসে তরুণ সংগীতশিল্পী নোম্যান (NO-MAN)-এর কণ্ঠে এবং মাশুক হক (MASHUQ HAQUE)-এর লো-ফাই (Lofi) সংগীতায়োজনে গানটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। মোহাম্মদ রনি (Mohammad Rony)-এর নিখুঁত ভিডিও এডিটিংয়ে এটি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এই আধুনিক সংস্করণে মূল রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে কবিগুরুর আরেকটি বিখ্যাত পূজা পর্যায়ের গান ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’ এর কিছু অংশও ম্যাশআপ বা কোলাজ হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা গানটির আধ্যাত্মিক ও রোমান্টিক আবহকে আরও গভীর করে তুলেছে।
ওহে কী করিলে বলো, পাইব তোমারে
রাখিব আঁখিতে আঁখিতে।
ওহে এত প্রেম আমি কোথাও পাব না
এত প্রেম আমি কোথাও পাব না
তোমারে হৃদয়ে রাখিতে।
আমার সাধ্য কিবা তোমারে
দয়া না করিলে কে পারে?
তুমি আপনি না এলে কে পারে
হৃদয়ে রাখিতে?
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না?
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না।
ওহে কী করিলে বলো, পাইব তোমারে
রাখিব আঁখিতে আঁখিতে।
Ohe kee korile bolo, paibo tomare
Rakhibo aakhite aakhite.
Ohe eto prem ami kothao pabo na
Eto prem ami kothao pabo na
Tomare hridoye rakhite.
Aamar saddho kiba tomare
Doya na korile ke pare?
Tumi aaponi na ele ke pare
Hridoye rakhite?
Majhe majhe tobo dekha pai
Chirodin keno pai na?
Majhe majhe tobo dekha pai
Chirodin keno pai na.
Ohe kee korile bolo, paibo tomare
Rakhibo aakhite aakhite.
সুরের দিক থেকে গানটি মূলত মিশ্র ইমন রাগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ধ্রুপদী রবীন্দ্রসংগীত হলেও, নতুন সংস্করণে এটিকে লো-ফাই পপ (Lofi Pop) ঘরানায় রূপান্তর করা হয়েছে। মাশুক হকের লো-ফাই মিউজিক কম্পোজিশনে রিভার্ব, মৃদু সিন্থ প্যাড এবং লিনিয়ার ড্রাম বিটসের যে মন্থর ব্যবহার করা হয়েছে, তা গানটিতে এক ধরনের স্বপ্নিল ও নস্টালজিক আবহ তৈরি করেছে। গায়ক নোম্যানের পরিবেশনা এখানে অত্যন্ত শান্ত, আবেগপ্রবণ ও মায়াবী, যা মূল গানের ধ্রুপদী গাম্ভীর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেও আধুনিক তরুণ শ্রোতাদের একাকীত্ব ও ভাবনার মুহূর্তগুলোর সাথে দারুণভাবে মিশে যায়।
গানটির মূল ভাবার্থ আবর্তিত হয়েছে পরম প্রিয় বা পরমেশ্বরের প্রতি এক চিরন্তন সমর্পণ, আকুলতা এবং বিরহের আকুতিকে কেন্দ্র করে। ‘এত প্রেম আমি কোথাও পাব না তোমারে হৃদয়ে রাখিতে’—এই চরণের মধ্য দিয়ে মানুষের ভালোবাসার সীমাবদ্ধতা এবং সেই সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে অসীম ভালোবাসাকে ধারণ করার তীব্র ব্যাকুলতা প্রকাশ পায়। নিজের অহংকার বা সাধ্যকে তুচ্ছ করে কেবল প্রিয়তমের কৃপা বা দয়ার ওপর ভরসা করার যে দর্শন রবীন্দ্রসংগীতে চিরকাল দেখা যায়, তা লো-ফাই মিউজিকের বিষাদগ্রস্ত আবহে এসে আরও হৃদয়স্পর্শী হয়ে উঠেছে। ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’ অংশের সংযোজনটি মনের ভেতরের সেই অপূর্ণতা ও চিরন্তন পাওয়ার আকুলতাকে আরও ঘনীভূত করে তোলে।
মন্তব্য